পড়াশোনায় মন বসানোর ৫টি উপায়-Porasonay Mon Bosanor 5 ti Upay

Image: পড়াশোনায় মন বসানোর ৫টি উপায়-Porasonay Mon Bosanor 5 ti Upay
পড়াশোনায় মন বসানোর ৫টি উপায়


পড়াশোনায় মন বসানোর ৫টি উপায়

আর্টিকেলটি পড়তে বসেছেন, তারমানে আপনার পড়াশোনায় মন বসে না। রাইট?  আমার বিশ্বাস এই আর্টিকেলটি পড়ার পর, পড়াশোনায় আপনার ১00% মনোযোগ ফিরে আসবে।

ছাত্র বয়সে পড়াশোনায় মন না বসাটা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যপার। এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। সেই কারণগুলো নিয়ে আজকে কথা বলবো না। আমার বিশ্বাস মনোযোগ ফিরে আনার টেকনিকগুলো জানলে সেই কারণগুলো সলভ হয়ে যাবে।

তাই আর দেরি না করে এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলুন এবং পড়াশোনায় আপনার মনোযোগ ফিরিয়ে আনুন। 

১. প্রতিদিনের পড়াশোনার একটি রুটিন তৈরি করুন:

হ্যাঁ দিন এবং রাত মিলে এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনি কখন কোন ঘন্টায় কি করবেন সেটার একটি রুটিন তৈরি করা প্রয়োজন। রুটিন তৈরি করা হয়ে গেলে সেটিকে আপনার টেবিলের সামনে টাঙ্গিয়ে রাখুন। রুটিনটি চোখের সামনে রাখলে েএটিই আপনাকে কাজের কথা মনে করিয়ে দেবে। 

আধঘন্টা পড়ার পর ১০ মিনিটের একটি বিরতি দিন। আনন্দদায়ক কোন কাজ করুন এবং আবার পড়তে বসুন। এই কাজটি আপনার মস্তিষ্ককে সচল রাখবে। আপনার পড়াশোনায় গতি ফিরিয়ে আনবে। বরিংনেস কাটাতে সাহায্য করবে।

আপনার এই প্রতিদিনের রুটিনে ঘুম, এক্সারসাইজ এবং বিনোদন মূলক কিছু রাখুন। পড়াটাকে চাপ হিসেবে না নিয়ে আনন্দদায়ক ভাবে পড়ার চেষ্টা করুন।

২. কোন কাজ গুলো আপনাকে পড়া থেকে দূরে রাখছে সেগুলো খুঁজে বের করুন:

পড়াশোনায় মন না বসার এটি একটি প্রধান কারণ। খুঁজে দেখুন আপনি এমন কোন কাজ করছেন যে কাজ আপনাকে পড়াশোনা থেকে দূরে রাখছে।

হয়তোবা আপনি সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় দিচ্ছেন অথবা বন্ধুদের সাথে অযথা আড্ডা মারছেন। এটাও হতে পারে আপনি ইন্টারনেটে গেইম খেলে সময় পার করছেন।

এ কাজটি করার পর আপনি জেনে গেছেন আপনার পড়াশোনা থেকে কোন কাজগুলো আপনাকে দূরে রাখছে। বুঝতেই পারছেন এই কাজগুলো আপনাকে এড়িয়ে চলতে হবে। হ্যাঁ প্রথমদিকে আপনার কষ্ট হতে পারে কিন্তু ভেবে দেখুন, কোনটিতে আপনার লাভ বেশি। পড়াশোনায়, নাকি ওই কাজগুলোতে? নিজের ভালোটা বোঝার চেষ্টা করুন।

৩. জীবনের জন্য একটি টার্গেট করুন:

ইয়েস, আপনাকে জানতে হবে লক্ষ্যবিহীন ভাবে চলা কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আপনাকে অবশ্যই লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে, তা না হলে আপনি জীবনে চলার পথে পদে পদে হোঁচট খাবেন।আপনি যখন লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলবেন, তখন সে অনুযায়ী কাজ শুরু করুন।

আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে যে কাজগুলি করা উচিত সেগুলি করা শুরু করুন। আমার মনে হয় আপনার প্রথম পদক্ষেপই হওয়া উচিত পড়ালেখায় ভালো ফলাফল করা। আপনি পরবর্তীতে জীবনের কোন সিঁড়িতে উঠবেন এখনকার পড়াশোনার রেজাল্ট সেটি নির্ধারণ করে দিবে। 

সুতরাং লক্ষ্যে অটুট থাকুন, অবশ্যই সাকসেসফুল হবেন। 

৪. ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকুন: 

ভালো চিন্তা এবং ভালো কাজ মানুষকে পজিটিভ রাখে। লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। তাই খারাপ কাজ এবং খারাপ চিন্তা থেকে দূরে থাকুন। সেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকুন। সৃষ্টিকর্তাকে সবসময় স্মরণ করুন । 

মনে রাখবেন, আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রতিটি কাজের হিসাব রাখছেন এবং সময়মত তিনি তার ফল ফিরিয়ে দিবেন। খারাপ কাজের ফল কি হবে এবং ভালো কাজের ফল কি হবে সেটা বুঝতে বোধ হয় আইনস্টাইন হওয়ার দরকার নাই। 

৫. ব্যায়াম করুন এবংপরিমিত খাবার খান:

আমাদের স্বাস্থ্য ভালো খারাপ থাকার সাথে মনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যের প্রতি অবশ্যই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মন ভালো থাকবে এবং মন ভালো থাকলে পড়াশোনায় মন বসবে। তাই স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম এর কোন বিকল্প নাই। 

আমরা অনেকেই জানিনা আমাদের খাদ্যাভ্যাস আমাদের শরীর এবং মনকে নিয়ন্ত্রণ করে অনেকটাই। তাই পরিমিত এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করার অভ্যাস করুন। সেই সাথে নিয়মিত ব্যায়াম করতে ভুলবেন না।

বোনাস টিপসঃ 

বোনাস কিন্তু একটি আনন্দের বিষয় এবং অবশ্যই মূল্যবান। সুতরাং পড়াশোনায় মন বসাতে এই পয়েন্টটি অবশ্যই অবশ্যই মনে রাখতে হবে এবং সে মতোই পালন করতে হবে। সেটা হচ্ছে খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। নেগেটিভ বন্ধু থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ ঐ বন্ধুর নেগেটিভ দিক গুলো আপনাকে প্রভাবিত করবে। আপনি কিছুতেই সেটি  এড়াতে পারবেন না। খারাপ বন্ধু শুধু খারাপ পরামর্শ দিবে কারণ সে তো ভালোটা বোঝে না, চিন্তাও করে না।

তাই বন্ধু নির্বাচন একটি বিশেষ বিশেষ ব্যাপার। একটি ভালো বন্ধু আপনাকে ভালো পথ দেখাবে অপরদিকে একটি খারাপ বন্ধু আপনাকে খারাপ পথই দেখাবে। তাই, বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবধান হতে হবে। বুদ্ধিমান এবং পজিটিভ বন্ধু নির্বাচন করুন। তাদের সঙ্গে সময় দিন। দেখবেন আপনার মধ্যেও পজিটিভনেস্ বৃদ্ধি পাবে। পড়াশোনায় মন বসবে এবং বুদ্ধিরও বিকাশ ঘটবে। সবশেষে বলি, সেই পুরনো প্রবাদ, “সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ”। ধন্যবাদ।






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন