ডেস্কটপ না ল্যাপটপ, কোনটা কিনবেন?। Desktop or Laptop-Which is better

 
Image: ডেস্কটপ না ল্যাপটপ, কোনটা কিনবেন? Desktop or Laptop-Which is better
 Desktop or Laptop-Which is better

ডেস্কটপ না ল্যাপটপ, কোনটা কিনলে ভালো হবে?

আপনার একটি কম্পিউটার কেনা দরকার কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না  কোনটা  কিনবেন। ল্যাপটপ নাকি ডেস্কটপ? মনে এই প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে।  কোনটাতে সুবিধা বেশী এই বিষয়টা আপনার কাছে পরিস্কার না থাকার কারণেই এই সিদ্ধান্তহীনতা। 

 কিন্তু এই দুইটি কম্পিউটারের সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে ধারনা নিতে পারলে আপনি কিনে ফেলতে পারেন। এই লেখাটি আপনাকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

 ডেস্কটপ  এবং  ল্যাপটপ কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্যঃ

ডেস্কটপ কম্পিউটার আপনার অফিস বা বাসায় টেবিলের উপর সেট করা থাকে বলে এটিকে ডেস্কটপ কম্পিউটার বলে। এটির সঙ্গে বাড়তি তারের মাধ্যমে মনিটর, সিপিইউ, কি-বোর্ড, মাউস ও ইউপিএস জোড়া লাগিয়ে নিতে হয়। 

অপরদিকে ল্যাপটপ কম্পিউটারে বাড়তি কোন তারের সংযোগ দরকার নাই। সবকিছুই এটির সঙ্গে সেট করা থাকে এবং আপনি যেখানে খুশী সহজেই বহন করে নিয়ে যেতে পারেন। শুধু চার্জ শেষে রিচার্জ করে নিলেই হলো।  

কেন ল্যাপটপ কিনবেন?

সুবিধাঃ

ল্যাপ মানে কোল আর শব্দটি থেকেই সম্ভবত ল্যাপটপ নামের ধারনা নেওয়া হয়েছে। কারন ল্যাপটপ আসলেই কোলের মধ্যে নিয়ে ব্যবহার করা সম্ভব। এটি রিচার্জ করে করে আপনি অফিস, স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজেই বহন করে নয়ে যেতে পারেন। যেখানে খুশী সেখানে বসেই ব্যবহার করতে পারেন। 

ল্যাপটপের আরও অনেক সুবিধা রয়েছে। ল্যাপটপে বাড়তি কোন কিবোর্ড বা মাউসের প্রয়োজন নেই। এটির সাথেই সেট করা রয়েছে সেগুলো। সুতরাং বাড়তি তার দিয়ে কিবোর্ড-মাউস জোড়া লাগিয়ে ঝামেলার প্রয়োজন নেই। 

কাজের গসময় বাচাতে ল্যাপটপ আপনাকে সাহায্য করবে। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য  ল্যাপটপ শিখন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটিভ থাকা, বই পড়া, ওয়ার্ডের কাজ, ভিডিও স্ট্রিম করা ইত্যাদি ব্যবহারের জন্য ল্যাপটপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

বর্তমানে বাজারে  আসা উন্নতমানের  ল্যাপটপের মাধ্যম গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, গেমিং, লাইভ স্ট্রিমিংসহ বিভিন্ন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে এ ধরনের ল্যাপটপের বাজারমূল্য একটু বেশী হয়ে থাকে। 

অসুবিধাঃ  

চলার পথে ল্যাপটপ হাত থেকে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে বর্তমানে বিল্ড কোয়ালিটির দিক থেকে শক্তপোক্ত ল্যাপটপ বাজারে পাওয়া যায়। যেগুলো হাত থেকে পড়লেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাছাড়া গেমিং এবং গ্রাফিক্সের ভারী কাজগুলো ল্যাপটপে করা সত্যিই একটু কঠিন হয়ে পড়ে। 

কেন ডেস্কটপ কিনবেন?

সুবিধাঃ

আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং বা গেমিং, এনিমেশন ইত্যাদি ভারী  কাজগুলো করতে চান তাহলে আপনার জন্য ডেস্কটপ বেস্ট হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার ডেস্কটপ আপডেট করাসহ বড় ফাইল সংরক্ষণ এবং পছন্দের গেমগুলোও ভালো গ্রাফিক্সে খেলতে পারবেন। এছাড়া আপনার কম্পিউটারের কর্মক্ষমতা বাড়াতে আপনি ডেস্কটপে খুব সহজেই অতিরিক্ত র‌্যাম, ভালো গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। 

অসুবিধাঃ ডেস্কটপ আপনি সহজে কোথাও বহন করে নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেনা কারণ এটি সাথে বাড়তি অনেক তার ও পার্টস্ থাকে। সুবিধামত ডেস্কটপ বানাতে অনেক টাকার প্রয়োজন যা কিনা সাধারন ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। 

কেনার আগে এই বিষয়গুলো শেষবারের মত মিলিয়ে নিনঃ

আপনি কি অনেক ট্রাভেল করেন? যদি সেটা করেন তাহলে একটি ল্যাপটপই কিনে ফেলুন। আর যদি আপনার কাজ অফিস বাসায় হয়ে থাকে এবং ভারী কাজ করতে হয় তাহলে ডেস্কটপ কেনাটা বিবেচনায় নিতে পারেন। 

ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপের কনফিগারেশন একই হলে ল্যাপটপের দাম বেশি হবে কিন্তু কনফিগারেশন বেশী হলেও কিছু প্রতিবন্ধকতার ল্রাটপের ক্ষেত্রে থেকেই যায়। কিন্তু তারপরও গেমিং এবং বিনোদনের জন্য এখনো অনেকে বেশী দাম দিয়েই ভালো কনফিগারেশনের ল্যাপটপ কিনে থাকেন। 

আমার মনে হয়, এখন আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কোনটা আপনার জন্য ভালো হবে। তবে যেটিই কেনে না কেন পুরোনো হলে সেটার হার্ডওয়্যার পরিবর্তন করতে হতে পারে।  

হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনার পুরনো ডেস্কটপের কর্মক্ষমতা বাড়াতে পারেন। মূলত কম্পিউটারের প্রসেসর, হার্ড ড্রাইভ, র‌্যাম এবং গ্রাফিক্স পরিবর্তন করতে হয়।  প্রসেসরের কর্মক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ  গ্রাফিক্স, র‌্যাম এবং হার্ড ড্রাইভ আপডেট করতে হবে। অপরদিকে  ল্যাপটপে এই সুযোগটি নেই। ল্যাপটপে সর্বোচ্চ র‌্যাম বাড়ানো যায় এবং এসএসডি স্টোরেজ সংযোগ করা যেতে পারে। 

এক নজরে দেখে নিন কোনটিতে আপনার সুবিধাঃ 

ল্যাপটপ কম্পিউটারের তুলনায় ডেস্কটপ কম্পিউটারের সুবিধা:

১. ডেস্কটপ কম্পিউটারে আরো ক্ষমতা এবং আরো বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

২. ডেস্কটপ কম্পিউটার তুলনামূলকভাবে দাম কম এবং আপগ্রেড করা সহজ।

৩. ডেস্কটপ কম্পিউটার একটি ভাল সামগ্রিক মান প্রদান করে।

৪. ডেস্কটপ কম্পিউটারে আরো আরামদায়ক কীবোর্ড এবং মাউস ব্যবহার করা অনেক সহজ। এটি লক্ষ করা উচিত যে একটি ল্যাপটপের সাহায্যে একটি বড়, আরামদায়ক মাউস এবং মাউস প্যাডও সম্ভব।

৫.  ডেস্কটপ কম্পিউটারে বড় মনিটর থাকে।

৬.  ডেস্কটপ কম্পিউটারে চুরির ঝুঁকি কম, যার অর্থ আপনার ডেটা হারানোর সম্ভাবনা কম এবং আপনার কম্পিউটার প্রতিস্থাপনের জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে।

ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় ল্যাপটপ কম্পিউটারের সুবিধা:

১. ল্যাপটপ কম্পিউটারগুলি অত্যন্ত বহনযোগ্য এবং আপনাকে প্রায় যেকোনো জায়গায় আপনার কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেয়।

২. আপনি যদি একজন ছাত্র হন, তাহলে একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার বাড়ি থেকে আপনার শিক্ষালয়ে এবং আবার ফিরে আসা অনেক সহজ হবে।

৩. ল্যাপটপ কম্পিউটার একটি ডেস্ক বা টেবিলে কম জায়গা নেয় এবং ব্যবহার না করা হলে ফেলে দেওয়া যায়।

৪. ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহারের সাথে যুক্ত একাধিক কর্ডের পরিবর্তে ল্যাপটপ কম্পিউটারে একটি একক কর্ড রয়েছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন