৫জি কি? ৫জি এর সুবিধা কি? বাংলাদেশে ৫জি নেটওয়ার্ক কবে চালু হবে?

 

Image: ৫জি কি? ৫জি এর সুবিধা কি? বাংলাদেশে ৫জি নেটওয়ার্ক কবে চালু হবে?
৫জি কি? ৫জি এর সুবিধা কি? বাংলাদেশে ৫জি নেটওয়ার্ক কবে চালু হবে?

৫জি কি? ৫জি এর সুবিধা কি? বাংলাদেশে ৫জি নেটওয়ার্ক কবে চালু হবে?

মুখটি যখন টেকনোলজির। প্রযুক্তিগত সবকিছু উন্নতির সাথে সাথে মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির ও বিবর্তন ঘটে চলেছে। সর্বশেষ 4g নেটওয়ার্ক এর সুবিধা মানুষ নিচ্ছে এবং দিন গুণছে কবে 5g চালু হবে। তাই মোবাইল নেটওয়ার্কের বিষয়ে এখন আলোচিত বিষয় 5g নেটওয়ার্ক।

সেলুলার টেকনোলজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন টেকনিকাল টার্ম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে এই সেলুলার টেকনোলজির নাম বিভিন্ন প্রজন্ম বা জেনারেশনের নামে দেয়া হচ্ছে। এর আগে আমরা টুজি থ্রিজি এবং সর্বশেষ ফোরজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছি। এবার আসছে ফাইভ-জি। 

বাংলাদেশের মানুষ এই সুবিধা ভোগ করছে ২০১৮ সাল থেকে। তাই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল কবে আসছে ফাইভ-জি। আর দেরি নয়, এ বছরের শেষের দিক থেকেই বাংলাদেশের মানুষ ফাইভ-জি ব্যবহার করতে পারবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছে। বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন পঞ্চম প্রজন্মের এই ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক ডিসেম্বর মাসের কোনো একদিনে উদ্বোধন করা হবে ।

কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। সেই সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আজকের লেখা।

৫জি বা 5G নেটওয়ার্ক আসলে কি?

ইংরেজি অক্ষর G দিয়ে বোঝানো হয় Generation (জেনারেশন) বা প্রজন্ম। তাই, ৫জি হলো পঞ্চম প্রজন্মের অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্মের ওয়্যারলেস মোবাইল নেটওয়ার্ক। 

এটাই সহজেই বোঝা যাচ্ছে বর্তমানে প্রচলিত ফোরজি নেটওয়ার্ক এর চাইতে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক অবশ্যই উন্নত হবে। এছাড়া অন্যান্য স্পেসিফিকেশনে ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেলুলার ডিভাইসে ফাইভ-জি প্রজন্ম নতুন হলেও ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে ফাইভ-জি উদ্ভাবিত হয়েছে অনেক আগেই এবং ইতিমধ্যে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।    

ফোরজি ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক দুইটি টেকনোলজি ব্যবহার করে কাজ করে। তারমধ্যে, একটি হলো এলটিই বা লং টার্ম ইভোল্যুশন এবং অপরটি হলো ওয়াইম্যাক্স। আমরা বর্তমানে মোবাইল বা স্মার্টফোনে এলটিই টেকনোলজির ৪জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছি। 

ফোরজি নতুন ফাইভ-জি প্রযুক্তির স্পেসিফিকেশন এর উপর ভিত্তি করে নতুন কোন নাম হয়তো দেয়া হবে। তাছাড়া বেশি ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হতে পারে। 

 ৫জি এর স্পিড কেমন হবে?

সেলুলার নেটওয়ার্ক এর ভালো দিক এবং খারাপ দিক নির্ভর করে এর ট্রান্সফার স্পিড এর উপর।সাধারণত নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক স্পিড এর চেয়ে বাস্তবের স্পিড একটু কম হয়ে থাকে। তাছাড়া ডিভাইসের ক্ষমতার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে এবং ব্যবহারকারীর অবস্থানের উপর নেটওয়ার্কের স্পিড অনেকাংশে নির্ভরশীল। এর আগে থ্রিজি ফোরজি নেটওয়ার্ক এর ক্ষেত্রে আমরা একই বিষয় দেখেছি। 

গবেষকরা জানিয়েছেন, নতুন এই ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের স্পিড ১০ জিবিপিএস বা সেকেন্ডে ১০ গিগাবাইট পর্যন্ত হবে। কিন্তু ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক কের এই নতুন মোবাইলে নেটওয়ার্কের স্পিড এর পিক ধরা হয়েছে ২০ গিগাবিট। 

যদিও বাস্তবিক পরীক্ষা থেকে জানা গেছে ফাইভ-জি এর স্পিড আসলে অতটা পাওয়া যাচ্ছে না । 1 থেকে 1.5 গিগাবিট পর্যন্ত স্পিড পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এটা যে দ্রুতগতি সম্পন্ন হবে সেটা বোঝাই যাচ্ছে। কারণ, ফাইভ জি এর গড় গতি হবে 100mbps এর চেয়ে কিছুটা বেশি। 

সে যাই হোক, ব্যবহারকারীরা ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের সুবিধা পাবেন অনেক। ফোরজি নেটওয়ার্ক এর চেয়ে দশগুণ বেশি স্পিড পাবেন ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এ। বিষয়টি আরো পরিস্কার করে বললে বলা যায়, ফাইভ-জি তে একটি এক ঘন্টার ভিডিও আপনি ডাউনলোড করতে পারবেন ৫ সেকেন্ডেরও কম সময়ে যেটা কিনা ফোরজিতে ৪ মিনিটের মত সময় লাগে। 

এছাড়া আরো একটি আশার কথা হলো যারা গেম পছন্দ করেন তাদের জন্য ফাইভ-জি তে সুখবর রয়েছে। আর সেটা হলো ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অনলাইন গেমিংসহ আরো অনেক প্রক্রিয়া সহজতর পাবেন। 

তাহলে চলুন দেখে নিই 5G তে কি কি সুবিধা রয়েছে

দ্রুত ইন্টারনেট ব্রাউজিং

ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ফলে ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর ক্ষেত্রে রয়েছে অনেক সুবিধা। আপনার প্রয়োজনীয় যে কোন তথ্য ইন্টারনেট থেকে ব্রাউজার করতে আপনাকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না। খুব দ্রুতই আপনি ব্রাউজিং করে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য সার্চ ইঞ্জিন থেকে সহজেই বের করতে পারবেন। 

দ্রুত ডাউনলোড

ফাইভ-জি এর ডাটা ট্রান্সফার রেট 4g এর চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ গুন বেশি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে এবং এই কারণে কোন কিছু ডাউনলোড করতে আর আপনাকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না। বড় সাইজের একটি এইচডি মুভি ডাউনলোড করতে আপনার  মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগবে, যা কিনা 4g দিয়ে চিন্তাও করা যেত না। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার আপডেট করতে আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হবে না। ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক আপনাকে খুব দ্রুত এই কাজগুলো করে দিতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে। 

ভিডিও গেম খেলার নতুন দিগন্ত

স্ট্রিমিং এর এই যুগে ফাইভ-জি এর জন্য ভিডিও গেম খেলার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক আসার পর হাইপ্রোফাইল গেম গুলো আপনার মোবাইল বা পিসিতে ডাউনলোড না করেই আপনি সহজেই খেলতে পারবেন। এখনকার মতো গেমিং এর জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পিসি প্রয়োজন হবে না বরং যেকোনো পিসিতেই গেম স্ট্রিম করেই  খেলতে পারবেন।

ফাইভ-জি রোবট এর মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের সুবিধা দেবে

হ্যাঁ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রোবট এর মাধ্যমে অস্ত্রপচার এর কাজগুলো প্রচলিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। ডাক্তার সাহেবরা এখন চেম্বারে বসে রোবোটিক আর্ম ব্যবহার করে অপারেশন থিয়েটারের রোগীর অপারেশন করতে পারবেন এই ফাইভ-জি ব্যবহার করে। ৫জি এর উচ্চগতি এবং আলট্রা-লো-ল্যাটেন্সি এর ফলে ডাক্তাররা এই সুবিধা পাবেন। 

চার্জ যাবে না মোবাইলের

ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এর  ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ফলে আপনাকে আর মোবাইলের চার্জ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হবে না। এই নেটওয়ার্ক ব্যাটারির চার্জ আরো অনেক দীর্ঘস্থায়ী করবে। সুতরাং একবার চার্জ দিয়ে আপনি আপনার যাবতীয় কাজ শেষ করার পরেও চার্জ যাবে না। সুতরাং চার্জ নাই মোবাইল অফ এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ব্যবহারকারীরা। 

ড্রাইভারবিহীন গাড়ি 

ফাইভ-জি আসার পরে ড্রাইভার বিহীন গাড়ি চালানোর প্রসার আরো বেড়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ফাইভ-জি এর দ্রুতগতি নেটওয়ার্কের কারণে ড্রাইভার বিহীন গাড়ি স্থানীয় নেটওয়ার্ক এবং সার্ভারের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সহজেই চলতে পারবে। 

বাংলাদেশে ৫জি নেটওয়ার্ক কবে চালু হবে? 

এরই মধ্যে উল্লেখ করেছি বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, এবছরের শেষের দিকেই বাংলাদেশের চালু হতে যাচ্ছে ফাইভ-জি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এর মোবাইল। সুতরাং আর মাত্র কয়েকটা দিন অপেক্ষা, তারপরেই বাংলাদেশের মানুষ পেতে যাচ্ছে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এর সুবিধা। 

৫জি ইন্টারনেট এর খরচ কত হবে?

এখন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি প্রশ্ন- 5g ইন্টারনেটের খরচ কেমন হবে। অনুমান করা যাচ্ছে যে, খরচ একই থাকবে। কিন্তু  নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কারণে একটি বাড়তি চাপ থাকবে মোবাইল কোম্পানিগুলোর উপর। তাই শুরুর দিকে ডাটা প্যাকেজের দাম কিছুটা বাড়তি থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। 

আপনার বর্তমান মোবাইলে কি ফাইভ-জি ব্যবহার করতে পারবেন?

আপনার মোবাইলটি যদি ফাইভ জি সাপোর্টেড হয় তাহলে পারবেন। আপনার মোবাইল কোম্পানির কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে এই সমস্যাটি আপনি সহজেই সমাধান করে নিতে পারেন। 

আশার কথা হলো ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য ফাইভ-জি নিয়ে আসছে আরও বেশ কিছু সুবিধা।এই উচ্চগতির ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করে বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্প ব্যবস্থার একটি বিশাল পরিবর্তন সাধিত হবে।মুভি দেখা বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখা অথবা গেমিং ব্যবস্থাই নয় ফাইভ-জি রয়েছে আরো অনেক অনেক সুবিধা।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন